আইফোন ১৬ প্রো বনাম ১৭

বাজার বিশ্লেষণ ও বর্তমান চিত্র

প্রযুক্তির বাজারে নিত্যনতুন উদ্ভাবনের ভিড়ে অ্যাপলের আইফোন ১৬ প্রো নিজের অবস্থান এখনো বেশ শক্তভাবে ধরে রেখেছে।

২০২৬ সালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আইফোন ১৭ সিরিজের আগমন সত্ত্বেও আইফোন ১৬ প্রোর চাহিদা এবং আকর্ষণ বিশেষ করে প্রযুক্তিপ্রেমীদের কাছে এখনো অমলিন। মূল্যের পতন ও উন্নত হার্ডওয়্যার ফিচারের কারণে অনেক ক্রেতাই এখন নতুন আইফোন ১৭-এর পরিবর্তে ১৬ প্রো মডেলটির দিকে ঝুঁকছেন।

চলতি বছরের এপ্রিলের তথ্যানুযায়ী, আইফোন ১৬ প্রো মডেলের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। উন্মোচনের সময় মডেলটির প্রাথমিক মূল্য ছিল ৯৯৯ ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার টাকার বেশি)। বর্তমানে এর ১২৮ জিবি ভ্যারিয়েন্টটি ৬০০-৮০০ ডলারের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে অ্যামাজনের মতো বড় অনলাইন প্লাটফর্মগুলোয় ৫১২ জিবি স্টোরেজ মডেলটি ৮১৯ ডলারে (১ লাখ টাকার কিছু বেশি) বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া যারা অধিক স্টোরেজ ও প্রিমিয়াম টাইটানিয়াম ফিনিশ পছন্দ করেন, তাদের জন্য এক টেরাবাইট মডেলটি বর্তমানে ৮৫০ থেকে ৯০০ ডলারের মধ্যে বাজারে মিলছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, আইফোন ১৭ বাজারে নতুন হলেও আইফোন ১৬ প্রো নির্মাণশৈলী এবং ক্যামেরা ফিচারের কারণে এখনো এগিয়ে রয়েছে। তবে আইফোন ১৭-তে সর্বাধুনিক এ১৯ প্রসেসর এবং ১২ জিবি রÅvম ব্যবহার করা হয়েছে, যা ১৬ প্রোর এ১৮ প্রো চিপ ও ৮ জিবি র‍‍্যামের তুলনায় দ্রুততর। পার্থক্যের প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে প্রথমে আছে বডি ফ্রেম। আইফোন ১৬ প্রোয় রয়েছে প্রিমিয়াম টাইটানিয়াম ফ্রেম, যেখানে আইফোন ১৭-তে ব্যবহৃত হয়েছে তুলনামূলক হালকা অ্যালুমিনিয়াম। এরপর আছে ক্যামেরা প্রযুক্তি। ১৬ প্রোর ৫এক্স অপটিক্যাল জুমসহ ১২ মেগাপিক্সেল টেলিফটো লেন্সটি ফটোগ্রাফি উৎসাহীদের জন্য একটি বড় আকর্ষণ। বিপরীতে আইফোন ১৭-তে কোনো ডেডিকেটেড টেলিফটো লেন্স নেই এবং এটি কেবল ২এক্স অপটিক্যাল জুম সমর্থন করে। এছাড়া আইফোন ১৭-এর বেস মডেলটি ৭৯৯ ডলারে শুরু হলেও আইফোন ১৬ প্রো বর্তমানে ৬০০ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে।

সামগ্রিক বিচারে, যারা গতি ও মাল্টিটাস্কিংয়ের চেয়ে উন্নত ক্যামেরা সিস্টেম ও প্রিমিয়াম বিল্ড কোয়ালিটিকে প্রাধান্য দেন, তাদের জন্য বর্তমান বাজারে আইফোন ১৬ প্রো একটি আদর্শ ও সাশ্রয়ী চুক্তি বলে উল্লেখ করেছেন স্মার্টফোন বিশ্লেষকরা।

খবর ও ছবি গিজমোচায়না

আরও